" /> কত বছর আগে – সুন্দরবন সাহিত্য সংসদ
Home / ছোট গল্প / অনু গল্প / কত বছর আগে

কত বছর আগে

অঞ্জলি দেনন্দী, মম

কত বছর আগে, ঠিক মনে নেই। তখন আমি নন্দী। দে হয়নি। আমার বাবামায়ের ধর্মের সংসার। বছরের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এতো পূজো হয়, যে আমরা পরিবারের সবাই এই পূজো অর্চনার ব্যাপারে খুব এক্সপার্ট। আজ ভাদ্র মাসের সংক্রান্তী। আমাদের বাড়ীতে আজ পান্ত ভাতের অরন্ধন। এর জন্য আমরা গতকাল সবাইকে নিমন্ত্রণ করি। আর আজ সকলেই প্রসাদ খেতে আসে। অনেক মানুষ। গতকাল স্নান করে, রান্না হয়। সেই খাবারই আজ মা শ্রী মনসার পূজোর জন্য নিবেদন করা হয়। তারপর তা প্রসাদরূপে সবাইকে খাওয়ানো হয়। আজ আর বাড়িতে কোনও রান্না-বান্না হয় না। এমটি মনসা পাতা, রান্নার উনুনের ওপরে দেওয়া থাকে। গতকাল স্নানের পর শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে, এই খাদ্য রন্ধন করা হয়। কোন কিছুতেই পেঁয়াজ ও রসুন দেওয়া হয় না। ভাত, চালতা দিয়ে ডাল, ওলের বড়া, চালতার টক, মাছের ঝাল, আলু ভাজা, পটল ভাজা, নারকোল ভাজা, বেগুন ভাজা, শসা ভাজা, পেঁপে ভাজা, ছাঁচি কুমড়ো ভাজা, কুমড়ো ভাজা, কাঁচ কলা ভাজা, থোর ভাজা, চিচিঙ্গা ভাজা, কাকরোল ভাজা, ঝিঙে ভাজা, করলা ভাজা, মুলো ভাজা, ঢেঁড়স ভাজা, ফুলকপি ভাজা, ডুমুর ভাজা, রাঙ্গালু ভাজা, বড়ি ভাজা  ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি……….রান্না করতে করতে মল মূত্র ত্যাগ করার জন্য ওঠা যায় না ও করাও যায় না। রান্না কমপ্লিট হতে হতে, ভোর হয়ে যেত। সেগুলি রেখে, শঙ্খ বাজিয়ে, তারপর সম্পূর্ণ। পরের দিন এই পদগুলি পাথরের থালা, বাটিতে করে নৈবেদ্য করে ও পাথরের গ্লাসে জল দিয়ে, মা শ্রী মনসা দেবীকে নিবেদন করা হত। কম্বল আসুন পেতে তাঁকে, মন্ত্র বলে আহ্বান করা হত। এই সমস্ত করার আগে, খিড়কি পুকুরে বা দামোদর নদে ডুব দিয়ে স্নান করতে হয়। এরপর শুদ্ধ বসনে পূজো করতে হয়। সমস্ত খাবারের ওপরে তুলসী পাতা দিয়ে অর্ঘ প্রদান করা হয়। পান সেজে একটি রূপোর রেকাবিতে দেওয়া হত। মেঝেটা জলে গোবর মিশিয়ে মুছতে হত। সামনে প্রদীপ জ্বলতো। সমস্ত বাড়ী ও উঠোনে আলো চাল বাটার আল্পনা দেওয়া হয়। সবাই কলা পাতাতে খেতো। আর কাঁসারের গ্লাসে জল দেওয়া হত। আর খেঁজুর পাতা দিয়ে বোনা চেটি আসন দেওয়া হত, সবাইকে বসে ভোজনের জন্য। নিমন্ত্রীরা খুব ভালোবাসে, এই পান্ত ভাতের অরন্ধনের রান্না করা খাবার ভোজন করতে! আর এরা ছাড়াও অনেক মানুষ আসতো, খেতে, যারা নিমন্ত্রিত নয়। যারা নিমন্ত্রীত ও যারা নিমন্ত্রিত নয়, সবাইই খাওয়া হয়ে গেলে, নিজেদের বাড়ী ফিরে যাবার সময়, সমস্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে ছাঁদা বেঁধেও নিয়ে যেতো। এর জন্য সকলেই যে যার আপন বাড়ি থেকে বাসন-পত্র সঙ্গে করে, নিয়েই আসতো। এখানে খাওয়ার পর সবাইকে পান সেজে খেতে দেওয়া হত। সবাই চিবোতে চিবোতে নিজের বাড়ি যেতো। সবার ভোজন হতে হতে, প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যেতো। এরপর আমরা বিশ্বকর্মা ঠাকুর দেখতে বের হতাম। আমাদের চৈ ত ন্য বা টী গ্রামের কাছাকাছি বেশ কয়েকটা কোল্ড স্টোরেজ ছিল। সেখানে খুব সুন্দর করে লাইটিং করে, বিশ্বকর্মা পূজো হয়। আজ সে বাবার নন্দীবাড়ি, জনশূন্য। অন্ধকার। আর আমি স্মৃতি নিয়ে জাবর কাটছি। এখন এই নতূন দিল্লীর ফ্ল্যাটে, বিশ্বকর্মা পূজো, আমি করি। রোজই শ্রী বিশ্বকর্মা দেবের পূজো, আমার উত্তম নগরের, এই ঠাকুর ঘরে হয়। আজকের দিনে, একটু বেশি করেই হয়!

লেখিকা-অঞ্জলি দেনন্দী, মম, নতুন দিল্লি

About sbsahitya

Check Also

বর্ষা যখন জীবনজুড়ে

অঞ্জলি দেনন্দী, মম বর্ষার জল ঝরে, সারা জীবনজুড়ে, দুনয়ন থেকে। বিয়ে হল। কলকাতার, ধনী ব্যবসায়ী বাবার, সুন্দরী কন্যা। পাত্র ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »

xu hướng thời trangPhunuso.vnshop giày nữgiày lười nữgiày thể thao nữthời trang f5Responsive WordPress Themenha cap 4 nong thongiay cao gotgiay nu 2015mau biet thu deptoc dephouse beautifulgiay the thao nugiay luoi nutạp chí phụ nữhardware resourcesshop giày lườithời trang nam hàn quốcgiày hàn quốcgiày nam 2015shop giày onlineáo sơ mi hàn quốcshop thời trang nam nữdiễn đàn người tiêu dùngdiễn đàn thời tranggiày thể thao nữ hcmphụ kiện thời trang giá rẻ

Skip to toolbar