" /> উম্মে মুনসারা ইকরা’র কলমে গল্প – সুন্দরবন সাহিত্য সংসদ
Home / ছোট গল্প / উম্মে মুনসারা ইকরা’র কলমে গল্প

উম্মে মুনসারা ইকরা’র কলমে গল্প

অবান্তিকা

অবান্তিকা সম্রান্ত পরিবারের মেয়ে । তার পরিবার বলতে তার বাবা আর সে । দেখতে অবান্তিকা অনেক সুন্দর , রূপ থাকলেও তার কোনো গুন নেই। তার বাবা তাকে খুব যত্নের সাথে বড় করেছেন। তাকে দিয়ে কোনো কাজ করাতেন না। অবান্তিকার হাত অনেক ফুটফুটে কোমল ছিলো। লোকে বলতো সেই হাতের স্পর্শ যে পাবে সে এক মায়া জালে জড়িয়ে পড়বে।লোকের কথা ঠিক-ই ছিলো। অবান্তিকার হাতের স্পর্শ পেলো শফিক। ঘন বর্ষাতে চারদিক যখন কাদাময় ছিলো। শফিক সেই কাদাময় ভূমিতে পড়ে গিয়েছিল। অবান্তিকা হাত বাড়াতেই শফিক তার হাত ধরে উঠে পড়লো। তারপর যে যার বাড়ি চলে গেলো। শফিক পাকিস্তানি আমলে এক উঁচু পদে চাকরি করতো। শিক্ষিত , ভদ্র , দেখতে সুন্দর , পুরুষ হিসেবে যা গুণ থাকা দরকার সব-ই ছিলো। তার পরিবারে তার বিধবা ভাবি আর তার ভাইয়ের একবছরের একটি ছেলে আর তার এক ফুফু থাকতো। শফিকের পরিবার ছিলো ঐ গ্রামের সবচেয়ে ধনীক পরিবার।ঐ গ্রামে প্রবেশ করার একটাই পথ ছিলো , তা হচ্ছে শফিকদের বাড়ির সামনে দিয়ে। আর সবদিকে বড়-বড় খাল ছিলো। শফিক খবর নিয়ে অবান্তিকার পরিচয় জানতে পারে। সে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালো অবান্তিকার বাড়িতে। অবান্তিকার বাবা রাজি হয়ে যায় প্রস্তাবে , আর অবান্তিকাও সম্মতি দেয়। অবান্তিকা আর শফিকের ধুমধাম করে বিয়ে হয়। যেহেতু দুজনেই এক-ই গ্রামের সেহেতু , খোঁজ-খবর নেওয়া হয়নি। ঐ দিন সন্ধ্যায়-ই অবান্তিকা আর শফিকের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যতোটা ভাব-ভালোবাসা থাকে তার চেয়ে বেশি যেনো তাদের মধ্যে ভাব-ভালোবাসা। একদিন তারা দুজনেই পুকুর পাড়ে গিয়েছিল। পুকুর পাড়ের এক পাশে ঘাট অন্য পাশগুলোতে ঝোপ-ঝাড় গাছপালা। ঘাটলার পাশে পোশাক বদলানোর একটি ছোট দালান । সেখানে অবান্তিকা জামা-কাপড় রাখলো। আর শফিক ঘাটলায় বসে ছিলো। যখন অবান্তিকা পুকুরে নামতে যাবে , তখন-ই একটি বাচ্চাকে দেখতে পায়। বাচ্চাটির বয়স কয়েক মাস মাত্র। তারা বাচ্চাটির কাছে যায়। বাচ্চার পাশে একটি কাগজ, কাগজে লেখা ছিলো , “মেয়েটিকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিলাম।” অবান্তিকা বিয়ের পর তার স্বামীর কাছে কিছু চায়নি। সে আবদার করে , “এইটাই তোমার কাছে আমার প্রথম আর শেষ চাওয়া , এই বাচ্চাটিকে আমাদের সাথে নিয়ে চলো। আমরা আজ থেকে এর মা-বাবা।”তারপর আর কি অবান্তিকা আর শফিক বাচ্চাটিকে নিয়ে গেলো। অবান্তিকা বিয়ের আগে যেভাবে দিন কাটাতো সেভাবেই দিন কাটাচ্ছিলো। সে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাতীত অন্য কোনো কাজ করে না। আর কি-ই বা কাজ করবে , রান্না-বান্নার সব দায়িত্ব অবান্তিকার ঝাঁয়ের। একদিন অবান্তিকা রান্নাঘরে গিয়েছিল। সকাল বেলা তার হাতের বানানো তেঁতো চা খেয়েও দুপুরবেলা অনিচ্ছা বসোতো রান্না করতে দেওয়ায় যা বাঝে রান্না করেছিল। তারপর থেকে অবান্তিকা নিজেই আর রান্না-বান্না করে না। আর ঘরের অন্যান্য কাজ তার ফুফু শ্বাশুড়ি-ই করে। অবান্তিকা মেয়েটিকে নিয়ে তার ঝাঁয়ের হাতে দিয়ে বলল , “তুমি এই মেয়েকে তোমার ছেলের সাথে বড় করো। ভাবি আমি বাচ্চা পালন করতে জানিনা। তবুও মেয়েটিকে আনলাম। মায়া হয়েছে খুব তাই। তুমি যদি বিরক্ত হয়ে যাও তবে আমাকে দিয়ে দিও। তার ঝাঁ তাকে বলল “কি বলিস এসব , তুই যাকে বাচ্চা বলে মেনে নিয়েছিস , তাকে পালতে আমি বিরক্ত হবো। আচ্ছা , ওর তো একটা নাম দিবি। অবান্তিকার অনুরোধে শফিক মেয়েটির নাম দিলো সায়মা।
তার কয়েক মাস পর অবান্তিকা জানতে পারে তার বাচ্চা হবে। তার ফুফু শ্বাশুড়ি আর তার ঝাঁ তাকে অনেক বুঝালো। তারপর অবান্তিকা বাস্তবতাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়। তার কোল আলো করে একটি মেয়ে সন্তান এলো তার নাম রাখা হয়েছে ইরা। অবান্তিকা ধীরে-ধীরে মা হতে শিখলো। তার দায়িত্বের মধ্যে এখন তিনটি বাচ্চা-ই ছিলো সামির , সায়মা আর ইরা। সে তাদের দেখা-শুনা করতো। বাচ্চারা নিজের মা বলে অবান্তিকা আর তার ঝাঁয়ের মধ্যে কখনও ভেদাভেদ করেনি। তারা অবান্তিকার ঝাঁকে বড় মা আর অবান্তিকাকে ছোটো মা বলে ডাকতো। বাচ্চা সামলানোটা অবান্তিকার কাজের মধ্যে পড়লেও , তার স্বামীর প্রতি তার যে ভালোবাসা ছিলো তা একটুও কমেনি। তাদের ভালোবাসার মাঝে কখনও কোনো মুহূর্তের জন্য অভিমান , রাগ ছিলো না। তারা একে-অপরকে অপরিসীম ভালোবাসে।দেখতে-দেখতে তাদের বিয়ের দশ বছর পূর্ণ হলো যেদিন। অবান্তিকাদের বিবাহ বার্ষিকী ঘটা করে পালন করে শফিক। মেহামানদের আপ্যায়নে যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখলো বাড়ির বড়রা। এদিকে সামির, সায়মা আর ইরা খেলতে-খেলতে তাদের ঘরের সামনে যে ঘরটি ছিলো তার ভেতরে প্রবেশ করে। তারপর একটি দরজা খুলে মাটির নিচে একটি সুরঙ্গের পথ দেখলো। হঠাৎ , সুরঙ্গের পথ দিয়ে উপরে আসতে দেখলো রাক্ষসের মতো কিছু মানুষ। তারা ভয় পেয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। ভীত হয়ে তারা অবান্তিকার কাছে ছুটে এলো আর সবকিছু খুলে বললো। আর এটাও বলল যে তাদের প্রত্যেকের পোশাক এক রকমের। অবান্তিকা বাচ্চাদের ঘরের ভেতরে গিয়ে খেলতে বলল। সে মনে-মনে ভয় পেলো এবং শফিক-কে জানালো।শফিক বুঝতে পারলো এরা পাকিস্তানি মিলিটারি আর তা অবান্তিকাকে বলল এরা উপর আক্রমণ করতে এসেছে। অবান্তিকা আরও বেশি ভয়ে পেয়ে শফিককে জড়িয়ে ধরে। শফিক অবান্তিকাকে সরিয়ে দিয়ে বললো , “তুমি , ফুফু , ভাবি আর বাচ্চাদের নিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে যাও আমরা দেখছি। একে-একে শফিক গ্রামের সবাইকে খবর দিলো। যে যা হাতের কাছে পেয়েছে তা নিয়ে ছুটে এসেছে প্রতিবাদ জানাতে। ঐ ঘরের ভেতরে ঢুকে সুরঙ্গ পথ দিয়ে নামলো শত-শত মানুষ। পাকিস্তানিদের সৈন্য বিশ জনেরও কম। তাদের কাছ থেকে অশ্র কেড়ে নিলো গ্রামের মানুষ। দুইজন মিলিটারিকে ধরতে পারলো।ঐ পথের মধ্যে একটি উঁচু মন্ড ছিলো। সেখানে শফিক উঠে দাঁড়ালো বন্দুক হাতে। অবান্তিকা সবাইকে নিয়ে বাড়ির সামনে আসলো। তারপর শফিক বললো , “আগে মিলিটারিদের নয় যারা দেশের শত্রু তাদেরকে মারবো। তারপর এদেরকে।” এই বলে একে-একে চারজন রাজাকারকে সে গুলি করলো। তারপর বন্দুকটি নিজের বুকের বসিয়ে দিল।তারপর অবান্তিকার খেয়াল হলো । সে ছুটে গেলো শফিকের কাছে আর জড়িয়ে ধরে বলল , “তুমি না রাজাকার না দেশের শত্রু তবে কেন নিজেকে এভাবে শেষ করছো?”শফিক বললো ,”আমি জানি আমি এসব কিছুই না তবুও নিজেকে শেষ করবো। কারন আমি তাদের গোলামী করেছি যারা কিনা আমাদের দেশের শত্রু।” অবান্তিকা শফিককে বললো , “দেখো তুমি যদি নিজেকে শেষ করে দেও তবে আমাদের দুই মেয়ের……” এমন সময় শফিক নিজের বুকে গুলি করলো । অবান্তিকার বুকে অসম্ভব জ্বালা করেছিল প্রিয়জনকে হারানোর ব্যাথায়।দেশের সর্বত্র যুদ্ধ হচ্ছে। সামির ও সবার সাথে যুদ্ধে চলে গেলো। সামিরের শোকে তার মাও মারা গেলো। দেশ স্বাধীন হলো। তার মধ্যে অবান্তিকার ফুফু শ্বাশুড়িও মারা গেলেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে ।কয়েক বছর পর অবান্তিকার দুই মেয়ে কলেজে উঠলো। একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর বেলা রেলিতে গেলো। বিকেল হয়ে এলো মেয়েরা বাড়ি ফিরেনি বলে অবান্তিকা কলেজে যায়। সেখানে গিয়ে শুনে কারা যেনো দুইটি মেয়েকে প্রথমে ধর্ষণ তারপর হত্যা করে লাশ কলেজের পেছনে ফেলে রাখছে।সে গিয়ে দেখে তার দুই মেয়ে।পোসমডাম করে তাদের লাশ যখন বাড়িতে পাঠানো হলো। অবান্তিকা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এভাবে শেষ হয়েগেছে অবান্তিকার মর্মান্তিক জীবন।

About sbsahitya

Check Also

আমাদের হলদে বাড়ি

রাজিত ফারহান  আমাদের বাসাটা রঙ করা হয়না প্রায় ২০ বছর যাবত। বাসাটা যদিও বেশী বড় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »

xu hướng thời trangPhunuso.vnshop giày nữgiày lười nữgiày thể thao nữthời trang f5Responsive WordPress Themenha cap 4 nong thongiay cao gotgiay nu 2015mau biet thu deptoc dephouse beautifulgiay the thao nugiay luoi nutạp chí phụ nữhardware resourcesshop giày lườithời trang nam hàn quốcgiày hàn quốcgiày nam 2015shop giày onlineáo sơ mi hàn quốcshop thời trang nam nữdiễn đàn người tiêu dùngdiễn đàn thời tranggiày thể thao nữ hcmphụ kiện thời trang giá rẻ

Skip to toolbar